আদি ভারতবর্ষের রূপ উপভোগ করতে গেলে পুজোয় যেতে হবে বারানসী

newsbazar 24 : পুজোর ছুটিতে যদি অল্প খরচে আদি ভারতবর্ষের অখন্ড রূপ উপভোগ করতে চান তাহলে চলুন ঘুরে আসি বারাণসী থেকে । এখানে দুর্গাপজার আনন্দ কিছুটা উপভোগ করতে পারবেন। ভারতবর্ষকে সঠিকভাবে চিনতে গেলে আপনাকে বারানসী যেতেই হবে।

ভারতের প্রাচীনতম শহর, সনাতন ঐতিহ্য, আর আস্থার শহর এই বারাণসী। গঙ্গার তীরের এই শহরে আপনি সপরিবারে ঘুরে বেড়াতে পারেন।ঘণ্টার পর ঘণ্টা গঙ্গার ঘাটে বসে কাটিয়ে দিতে পারবেন।  সিল্কের শাড়ি, বিখ্যাত বেনারসী পান ,জটিল নকশার কার্পেট, গহনা, মালাই জিলিপি,  থেকে শুরু করে  নদীর তীরে  সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয় পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে আপনি অনুভব করতে পারবেন বারাণসী আসলে একখণ্ড আদি ভারতবর্ষ।

কলকাতা থেকে বারানসি যেতে হলে আপনাকে হাওড়া অথবা কলকাতা স্টেশন থেকে ট্রেন ধরতে হবে। রাতের ট্রেন ধরলে সবচেয়ে ভালো হয়। রাতের বেলা উঠবেন সকালে বারাণসীতে নামবেন। এছাড়া প্লেনে যেতে পারেন মাত্র 2 ঘন্টা সময় লাগবে দমদম থেকে।

বারাণসী শহর  তীর্থ যাত্রীদের কাছে কাশী নামেও পরিচিত। এই শহরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে অসংখ্য মন্দির।  বিশেষত গঙ্গার ঘাট সংলগ্ন এলাকার মন্দিরগুলোর ঐতিহাসিক এবং স্থাপত্যের দিক থেকেও অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। নাগারা ঘরানার নকশা সকলের আকর্ষণীয়। বিখ্যাত মন্দির  কাশী বিশ্বনাথ মন্দির। সোনালি গম্বুজগুলির জন্য এই মন্দির স্বর্ণ মন্দির হিসাবেও পরিচিত। অবশ্যই দেখতে হবে  দুর্গা মন্দির।

বারাণসীর গঙ্গার ধারে মোট ৮৪ টি ঘাট রয়েছে ।  পবিত্র গঙ্গাজলে স্নান যাবতীয় জাগতিক পাপকে ধুয়েমুছে দেয় ও মুক্তিলাভ  হয বলে ভক্তদের বিশ্বাস ।

খুব ভোরে লোকজনের ভীড় এড়িয়ে ঘাটে বসে থাকার অভিজ্ঞতা সারা জীবন মনে থাকবে।  গঙ্গায়  সকালের নৌকা বাইচ এবং সন্ধ্যায় দশাশ্বমেধ ঘাটে দর্শনীয় আরতি  না দেখলে কাশী দর্শন অপূর্ণ থেকে যাবে । অন্যান্য জনপ্রিয় ঘাটের মধ্যে রয়েছে আসসি ঘাট এবং মণিকর্ণিকা ঘাট।

নির্জনে যেতে চাইলে সারনাথ ঘুরে আসলে মনে শান্তি পাবেন । বারাণসী থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে এই গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ তীর্থস্থানটি। জানা যায়, ভগবান বুদ্ধ জ্ঞানার্জনের পরে প্রথম বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা দিয়েছিলেন এখান থেকেই। চারপাশে অনেকগুলি সুন্দর স্তূপ এবং মন্দির রয়েছে।

গঙ্গা নদী এবং ঘাটের দুরন্ত সৌন্দর্য দেখতে গেলে  মোগল ঘরানায় তৈরি রামনগর  দুর্গটি সম্ভবত সেরা জায়গা।শহর থেকে সড়ক পথে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে রামনগর দুর্গ। ঐতিহাসিকদের মতে ১৭৫০ এর দশকে রাজা বলবন্ত সিং এই দুর্গ নির্মাণ করেন। বেলেপাথরের এই বিশাল স্থাপত্য এখনও বেশ আকর্ষণী। যদিও বাইরে থেকে বেশ জরাজীর্ণ চেহারাও ধরা পড়বেই চোখে। দশেরার সময় সুন্দর করে সাজানো হয় এই ফোর্ট। বিশেষত রামলীলা বড় করে অনুষ্ঠিত হয় এখানে। দুর্গে যেতে হলে সকাল সকাল ঘাট থেকে নৌকা করে গঙ্গাবক্ষে ভ্রমণ করে এসে পৌঁছাতে পারেন এই স্থাপত্যে।