Durga Puja 2023:জমিদার বাড়ির প্রাচীন ঐতিহ্য মেনেই এখনো হচ্ছে মেখলিগঞ্জের রানীরহাটের পুজো

Newsbazar24:কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জে, প্রায় আড়াই শতাধিক বছরের পুরোনো জমিদার বাড়ির পুজোর আনন্দে একসময় মেতে উঠতো গোটা গ্রাম । বর্তমানে জমিদার নেই জমিদারিও নেই। তবুও জমিদার বাড়ির প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে এখনও পুজো করে চলেছেন গ্রামবাসীরা। মেখলিগঞ্জে ব্লকের অন্তর্গত রানীরহাট অঞ্চলের পুরান বাসা এলাকার জমিদার বীরেন মৈত্র পূর্বপুরুষের আমলে দুর্গাপুজো শুরু হয় দুর্গাপুজো পুজোর একমাস আগে থেকেই মূর্তি তৈরির কাজ শুরু হয় কলকাতার এক নামি মৃৎশিল্পী কেষ্ঠ পাল। জানা গেছে কেষ্ট পাল প্রথম মূর্তি তৈরি করার পর আর কলকাতায় ফিরে যাননি তিনি সেখানেই থেকে যান। জানা যায় কোচবিহারের রাজার সময়ে রানীরহাটের জমিদার বাড়ির এই দূর্গা মন্ডপ নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে সেই দুর্গা মন্ডপ ভগ্নপ্রায়।
সংস্কার ও রক্ষনা বেক্ষনের অভাবে মন্দিরটির জরাজীর্ন অবস্থা। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায় এই মন্দির নির্মাণের পেছনে রয়েছে নানান গল্প। স্থানীয় এক প্রবীন ব্যক্তির কাছ থেকে জানা যায়, বর্তমানে যা মন্দির হিসাবে ব্যবহার করা হয়, তা কিন্তু প্রকৃত পক্ষে ছিল জমিদারের বাড়ি। সেই সময় কোচবিহারের রাজা তা জানতে পেরে ভবন নির্মানের কাজ বন্ধ করে দেন। সেখানে বাস করতো এক জমিদার। মেখলিগঞ্জ শহরে বসবাসরত জমিদার বাড়ির এক উত্তরসূরীর কাছ থেকে জানা যায় , রাজার বাধার মুখে পড়ে সেই ভবন  মন্দির হিসাবে দেখানো হয়। এবং তারপর থেকেই জমিদারের উদ্যোগে শুরু হয় দুর্গা পুজো। সেই থেকে প্রতিবছর সেখানে মা দুর্গার আরাধনা করা হয়। দুর্গা মূর্তি তৈরি করতে কলকাতা থেকে আনা হত মৃৎশিল্পি। আস্তে আস্তে জমিদার বাড়ির পুজোর জৌলুস কমতে থাকে।
সেই সময় থেকে পুজোর দায়িত্ব গ্রহন করেন স্থানীয়  বাসিন্দারা। জমিদার বাড়ির পুজো সার্বজনীন পূজায় রূপান্তরিত হয়। স্থানীয় মানুষরা ঐতিহ্যবাহী এই দুর্গা পুজোকে এখনও ধরে রেখেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও সেখানে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।