দত্ত পুকুর ঃ রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় নৌকা বিহারে এসে  শুরু করেছিলেন বুড়োমায়ের পুজো

news bazar24 : চলুন ঘুরে দেখি দত্তপুকুরের বুড়োমায়ের পুজোর ইতিহাস ৷  কথিত আছে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় এই অঞ্চলে নৌকা বিহারে এসেছিলেন ৷ জায়গাটি খোঁড়ার সময় প্রমাণস্বরূপ জাহাজের টুকরো পান ৷ ঘটনাচক্রে  জায়গাটি রাজার ভীষণ পছন্দ হয়ে যাওয়ায় নাতিকে এখানে বাড়ি করে দেন ৷ সে সময় থেকেই  রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়  দুর্গা পূজার সুচনা করেন আজ থেকে প্রায় 351 বছর আগে ৷ ৩৫২ বছর আগের এই পুজা এক নামেই সবার কাছে পরিচিত । বর্তমানে রায়বাড়ির চারজন শরিক এই পুজো করে আসছেন ৷ মাঝে মাঝে আর্থিক অভাব অনটন দেখা দিলেও বুড়োমার পুজো আজ পর্যন্ত কখনও বন্ধ হয়নি ৷ দু ‘ বেলা অন্নভোগ বুড়োমার পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ৷ নিষ্ঠা ভরে পুজা পালনে কোন ত্রুটি আজ ও ঘটেনা । তাঁর বাড়ির পুজো শুরু হওয়ার পর ই    গোটা দত্তপুকুর, বারাসত  এলাকার পুজো শুরু হয় ৷ গোটা এলাকার পুজা শুরু হয় বুড়োমায়ের পুজো আরম্ভের পর। বিসর্জনের ক্ষেত্রেও নিয়ম এক ৷ বুড়োমার বিসর্জন হওয়ার পর অন্যান্য প্রতিমার বিসর্জন হয় ৷ এর জন্য বৃহস্পতিবার ও শনিবার যাই পড়ুক, নিয়ম মেনে দশমীর দিন বুড়োমার বিসর্জন হয় ৷ করোনার কথা মাথায় রেখে দেবী বুড়োমার পুজোতে এবারেও থাকছে বিধিনিষেধ ৷ রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের বংশধর রেণুকা রায় জানান, এ বছর সাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে ভোগ বিতরণ ৷ শুধুমাত্র বুড়োমার পুজোর জন্য যেটুকু প্রয়োজন হয় সেইটুকু ভোগই রান্না হবে ৷

প্রতিমার রুপের বিশেষত্ব হল বুড়োমায়ের দুটি হাত কেবল বাইরে থাকে ৷ বাকি ৮ হাত চুলে ঢাকা অবস্থায় থাকে ৷  দালানে বসেই মায়ের মূর্তি তৈরি করেন শিল্পীরা ৷ মায়ের পুজোর সঙ্গে জড়িত শিল্পী থেকে পুরোহিত সকলেই বংশ পরম্পরায় এই কাজ করে আসছেন ৷ মায়ের বোধন হয় মহালয়ার আগে কৃষ্ণপক্ষের পঞ্চমীর দিন তারপর নিয়ম মেনে  শুরু হয়ে যায় পুজো ৷ ৫ দিনের বদলে পুজো চলে 17 দিন ধরে এমনটাই নিয়ম এখানকার ৷ প্রাচীন এই বুড়োমার পুজোয় দূরদূরান্তের বহু মানুষের সমাগম হয় ৷ ১৭দিনের জমজমাট পরিবেশ দেখা যায় এলাকায় তবে বিগত দু‘বছর ধরে করোনা সংক্রমণের জেরে তা অনেকটাই কমেছে ৷ রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রতিষ্ঠিত দত্তপুকুর শিবালয়ে অবস্থিত এই পুজো এবার ৩৫৩  বছরে পা দিল ৷