জানেন কি মা দুর্গার ১০ হাতের মহিমা ? কেন মাকে ১০ টি হাত করতে হয়েছে ?

Newsbazar24:আশ্বিনের শারদ প্রাতের অপেক্ষা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বাংলার বুকে। পুজো পুজো গন্ধ লাগতে শুরু করেছে আশপাশের সমস্তটায়! দেবী দুর্গার আগমনের আর মাত্র ২৫ দিন বাকি।
পুরাণ অনুযায়ী, অসুরের তাণ্ডবে যখন দেবতাকুল ভীত সন্ত্রস্ত , তখন তাঁকে বধ কোনও পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না দেবতারা। কারণ মহিষাসুরের কাছে ছিল বিশেষ রক্ষাকবজ। কোনও নারীর হাতে তার মৃত্যুর লিখন ছিল। যিনি মনুষ্যশরীর থেকে তৈরি না হয়ে দেবতার তেজ থেকে জন্ম নেবেন। প্রজাপতি ব্রহ্মার পরামর্শ মেনে বিভিন্ন দেবতার তেজ থেকে জন্ম নিল এক দশভূজা নারীমূর্তি।
দশপ্রহরণধারিনী’ দেবীর দশ হাতের পিছন লুকিয়ে আছে এক কাহিনী। একজন মহিলা যেমন বিবিধ শক্তির অধিকারী, সেই কথা মাথায় রেখে দেবীর দশ হাত। শাস্ত্র মতে, দশ দিক সমানভাবে সামলানোর প্রতীক মা দুর্গা। আর সেই থেকেই দশ হাতের উদ্ভাবন। মহিলারা যেমন একাধারে কন্যা, একদিকে স্ত্রী আবার একদিকে প্রেয়সী আর অন্যদিকে জননী। এই রুপের সঙ্গেই সংসারে সংহার মূর্তি ধারণ করে দুষ্টের দমনও করে মহিলারা। সেই জায়গা থেকে দুর্গার দশ হাত দশদিকের প্রতীক।যুদ্ধের আগে দশভূজা দুর্গার হাতে দশ অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন দেবতারা। এই দশটি অস্ত্র আসলে দশটি গুণের প্রতীক।
দেবরাজ ইন্দ্র দেবীকে দেন বজ্র। যা দৃঢ়তা ও সংহতির প্রতীক। বিষ্ণু দেন সুদর্শন চক্র। যার ফলে বিনাশ ও সৃষ্টির আবর্তে থাকেন দেবী। ব্রহ্মা তুলে দেন পদ্ম। আঁধার সরিয়ে আলোর পথ দেখায় পদ্ম। মহাদেব দেন ত্রিশূল। ত্রিশূলের ত্রিফলা মানুষের তিন গুণের সমন্বয়। সত, রজ, তম। মহাদেবের গলার সাপও থাকে দেবীর হাতে। সাপ শুদ্ধ চেতনা আনে। নেতিবাচক চিন্তা কাটিয়ে মানসিক উত্থান এনে দেয়।
পবন দেব ও সূর্যদেব দেবীকে দেন তির-ধনুক। যা ইতিবাচক শক্তির প্রতীক। যমরাজ দেবীকে দেন কালদণ্ড। এই অস্ত্র আনুগত্য, ভালোবাসা ও ভক্তির প্রতীক। অনেকে মনে করেন দেবীকে তলোয়ার দেন গণেশ। যা মানুষের বুদ্ধির প্রতীক। তলোয়ারে বৈষম্য ও অন্ধকার ভেদ করা যায়। বরুণদেব দেন শঙ্খ। যা জগতে প্রাণের সৃষ্টি করে। ইন্দ্রের বাহন ঐরাবত দেবীকে দেন ঘণ্টা। ঘণ্টাধ্বনি অশুভ শক্তির তেজ লঘু করে।