কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক এর কয়েকটি বিখ্যাত কবিতা

কুমারী জ্যোৎস্না একমাত্র তোকে

১) কুমারী জ্যোৎস্না একমাত্র তোকে
_________

এই সূচিপত্রে’র শেষের কবিতা উল্কি আঁকে অন্তরে ! সময় ধন্য একটা ফুল একান্ন পৃষ্ঠার ভেতর শ্বাসরোধ হয়ে মরে ছিল ; সেটা তোর দেওয়া ছিল !

ভাব – ভালোবাসার রাতগুলো স্বরচিত সোহাগ মেখে চোখ পেতে চেয়ে নিয়ে ছিল দর্পণের নিষিদ্ধ শরীর ,——

সুখ – অসুখের ভেতর ভিন্ন শ্রেণীর নির্জনতা আমাকে শুনিয়ে রাখে বিবর্ণ ঝড়ের ইতিহাস !

সময়ের ভেতর সুধা অথবা গরল ; এ’আবার নিছক শরীরে টলমল করে ! এই একই কবে থেকে নির্জন হয়ে আছে চাঁদ আকাশের ছায়া পথ ;
শেষ বেলায় স্বপ্ন দেখার ঘুম মধ্যরাতের বৃষ্টিকে ডাকে যাবতীয় অলীক ভাস্যে ,—–
পার্থিব নারী চেহারা গুলো ভ্রূভঙ্গ লাস্যে সমস্ত রাত আমাকে অস্থির করে মারে নষ্টামীর চন্দ্র কিরণে ! এভাবেই জ্বলি ভালোবাসার চিতার
ভেতর !!

২ ) আকাশলীনা তোর জন্য

যতোই আমায় বৃষ্টি বাদল স্বপ্নে এসে দেখা ; তোর মত মিথ্যা বলতে পারবো না ,—- তিন সত্যি ! দিব্বি কাটছি !

এই ভাবে ঠিক মনের মধ্যে প্রতি মূহুর্ত আঁকতে আঁকতে গভীরে তোর লাবণ্যরেখা ; এরপরেতে মেঘের দেহে হঠাৎ করে আচম্বিতে আগুন জ্বলে ওঠে , নতুন কেনা আয়না দিয়ে অঝর ধারায় শ্রাবণ নামে ছন্দ না মেনে ! ঠিক এভাবেই সে–ই আগের মতই দলবেঁধে বৃষ্টিরা সব একই সাথে নেমে আসে ভুবনডাঙায় ভরদুপুরে ! কি ; বিশ্বাস হ’চ্ছে না আকাশলীনা ?

 

শেষ সন্ধ্যায় চাঁদের আলো কী ভাসমান অসাবধানী ; তবুও যেন ভালো লাগা , মন্দ লাগা যাইনি ভোলা ! তোকে ছুঁয়ে বলছি ……

দুই হাতেতে হঠাৎ পাওয়া বৃষ্টি আদোর ; হৃদয়পাড়ে যত্ন করে রাখাই ছিল সাতটা বছর ! এটা আমার সর্বকালিন সত্যি কথা ; তবুও আমি বুক বাজিয়ে বলতে পারি ,— তোর মত একটাও মিথ্যা বলতে পারবো না !

 

অন্ধকারকে বনের পথে খুঁজতে গিয়ে আকাশ আমায় হাত বারিয়ে দু চার মুঠো হীরের মতন জ্বল জ্বলে কত তারা দিল , বিনে পয়সায় !

এই যে আমার মনের মধ্যে সমুদ্র এসে সতত ঢেউ তোলে ; তবুও যেন তুমিশূন্য তুমিশূন্য এই বিছানা ,—- অবিবেচক প্রতিটা রাতে !

যদিও আমার স্বপ্ন থেকে নতুন একটা আকাশ ডাকে ; রূপকথারা সেই হরিণীর পেছন ছোটে মৃগনাভীর ব্যাকুলতায় !

হঠাৎ করেই অন্য একটা সময় এসে হাজির হলো ! এই তো আমার ঠোটের মধ্যে তোর আঁকা সেই প্রথম চুমু ; অটুট তবু স্মৃতিনির্জন ,—– তবু কেন এই এতক্ষণ তোরই জন্য অতল জুড়ে বৃষ্টি ভেজা সকাল – দুপুর – সারারাত্রি !
অন্য একটা দিনের মধ্যে সে–ই তোকে তাই গুছিয়ে রাখি ; স্বভাবদোষে !

বাতাসপরীর ডানার ঝাপট স্বপ্নে স্বপ্নে স্মৃতিনির্ভর ; অথচ কেন ভেতর থেকে ভুলতে চেয়েও যায়না ভোলা তোর দেওয়া সেই সর্তগুলো ! বহু দিনের কষ্টরা সব মিথ্যা মিথ্যা দগ্ধে মারে অতলান্ত ,—- শেষ পর্যন্ত এ’মন থেকে এতকালের বৃষ্টিগুলো বের করে দেই ; অথচ আমি অনেক চেষ্টায় না পারি যে তোকে ভুলতে , সত্যি বলছি আকাশলীনা !! তিন সত্যি , দিব্বি কাটলাম ……. !

৩) এক নামহীন স্টেশনে আমি

একমাত্র ঈর্ষণীয় কিছুর জন্য ভেতরে ভেতরে মন নিয়ে পুড়ছিলাম ; অথচ সেই এক রাস্তায় বহুবার মৃত্যু এসে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে গেছে অপ্রমেয় এক নামহীন স্টেশনে ! তখন ঠিক স্বপ্ন ছিল .ঘুমহীন রাতগুলোর কাছে , …. যদিও আমি যতটা যেভাবে এতকাল ধরে ক্ষয়েছি ;

তবু মৃত্যুর খবর টুকু অনুধাবনে মনকে সক্ষম করে নি একবারও ! শেষ পর্যন্ত ঐ যে চেনা মুখ , চেনা শরীর , ঘর-বাড়ি , হৃদয় ছড়ানো রাস্তা , কিছু কিছু সুখ ; এদের মধ্যে বহু পুরুষের জন্মের দাগ নিয়ে আমি একজন ! এই আমি হাওয়াময় একক এভাবেই , ….. নজর ছড়ানো পাপ , তাপ , দুঃখ এবং বিরহ ; বেশ কিছু নতুন নতুন অসুখ পোড়া প্রহরের স্মৃতি বিজড়িত ! এই আমিটার মধ্যে আদ্যোপান্ত জন্মগত , ……

অন্তঃস্থলে নির্ঘুমের আঠা লেগে আছে ! রক্তের ভেতর ঘুরছে গত জন্মের স্মৃতি হয়ে যাওয়া চেনা মুখ গুলো ,
এই পাঁচকোনা ঘরে আমি দরজার পাল্লা ধরে দাঁড়িয়ে বহুদিন বান্ধবহীন একা ; তবুও তাকিয়ে থাকা খোলা চোখে বেশ কিছু ভালোবাসার শূন্যে ওড়াউড়িতে তালিয়ে যাই , ……

আমি এভাবেই মৃত্যুর কাছে ঋণী ! মধ্যরাতে নিঃশব্দে এভাবে চুপিসারে মনের ক্যানভাসে আঁকি নদীর তরঙ্গ ; জলের দর্পণে ভাসে রমণীর জটিল লাস্য ৷ এভাবে কত রাতের অন্ধকারের মধ্যে মৃত্যুর সম্মুখে শোকশীর্ণ হয়ে মুখ নিচু করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার ইহকালের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি ! এটাই আমি ; আমার দীর্ঘশ্বাসের গন্ধ সমর্পণ করতে তারা খসা আকাশটাকে ! অথচ নবনীতা নাম্নী নারীটি খারাপ ইঙ্গিতে নিরস্ত্র করেছে অলৌকিক ক্ষমতায় ম্যাজিক ফিগারের কল ঘরের স্নানের দৃশ্য দেখিয়ে !

শেষটুকু ভীষণ কষ্ট করে লিখেতে হয়েছে ! রাতের ভেতর আমার পশ্চাৎদেশের ছায়া বালি-সিমেন্ট খসা দেওয়ালে অমাইক সভ্যতা নিয়ে স্থির হয়ে জেগে আছে ,……
এই মৃত্যু কতবার সিঁড়িভেঙে অসাবধানে নিচে নেমে গেছে ; আমিও ডুবেছি বহুবার প্রায়ই ৷ হৃদয় যেখানে নিছক এঁকেছে কল্পনায় আমার অতীতের নারী মুখ গুলো ; সেই সব দিনগুলো মৃত্যুর ভেতর ফিরে আসে হঠাৎ করেই অজান্তে ! শেষে কারা যেন ঐ শ্মশানের কাছে এসে ফুল চন্দনের সোহাগ মিশিয়ে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস হীন শরীরে আগুন এঁকে দিতে দিতে বলে ওঠে ; এবার তুমি সোজা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে স্মৃতি হয়ে ওঠো ! এবার তোমার কায়াহীন আজন্মের বিশ্রাম ! ভালো থেকো ; ওঁ শান্তি ! ওঁ শান্তি ! ওঁ শান্তি সর্ব ভূতেষু নমঃ !!

৪) একমাত্র এই তুমিটার জন্য

_

কিছু কী ফেলে আসতে হল ; মন ভর্তী অকেজো সংসার , হয়তো দূরের শহরের জনারণ্যের ভেতর এই তুমিটার একাকিত্ব ! শেষ ট্রেনটা দূ–রে চলে যেতে যেতে বিচ্ছেদের জ্বালায় পুড়ে ওঠে মন ; অন্য এক স্বপ্নের কথা স্মৃতির মধ্যে আজও অবসরে ভীষণ দারিদ্র !

কিছুটা দৃশ্যের ভেতর বাতাসে তোলে ঢেউ ; অচেনা সময় চোখের সামনে মেলে ধরে সন্ধিপত্র ,—– বাইরের আকাশে ভরে ওঠে প্রত্যন্ত জীবন ! সেখানে হাওয়ায় হাওয়ায় উড়ে যায় প্রথাগত শ্বাস – প্রশ্বাস ! অথচ এভাবেই উল্টো দর্পণে কারও কারও যান্ত্রিক ভাবে বেঁচে থাকার নির্জন বসবাস হয় !

বৃত্তের বাইরে থেকে কেউ দেখতে পেয়েছে ; পুরোনো শহরের জীবন ,——

অন্য রকম ছদ্মবেশ নিয়ে কেউ কেউ অমাইক হেসে ওঠে ; অন্য কোন বুকের ভেতর !

এই তুমিটা একই পুড়ছিল নিভৃতে ; চোখের সামনে আপাতত আজীবনের দুঃখগুলো এভাবেই কোল পেতে বসে ছিল দুঃখভরাতুর !
এই তুমিতে পেরিয়ে এলো সারা বছর জুড়ে লেখা কবিতার পঙক্তি ও স্তবক ; দিনরাতের দীর্ঘ ইতিহাস ব্যক্তিগত ভাবে দরজার ওপাশে অনুভবজাত , তবুও বিষাদ হয়ে সত্যের পথে বৃষ্টির মতন ঝরে যায় চোখের জল !

 

আমিতো এভাবেই
বাঁকচোরা রাস্তার পাশে একা একা দাঁড়িয়ে সেই তুমিটাকে খুঁজছিলাম ;

তুমি তখন একলা একলা পুড়ছিলে শমশানে , —– তবু জটিল নিভৃতে কাঁদে অন্য এক আমি ; ভেতরে ভেতরে দিগ্বিদিক ভেসে যায় ! একা সেই অন্তর্গত পথে ট্রেনটা স্টেশন ছাড়িয়ে কোথায় মিলিয়ে যায় ; এরই মাঝে অন্তঃস্থলে প্রতিধ্বনি শুনি রাত শেষ হতে হতে !!

 

৫ ) স্বপ্নদ্বীপ এবং অন্যান্য নিরীহ শব্দেরা

________

যেটুকু বাকি ছিল
তার সবটা দিয়ে সময়লগ্নের তিথিক্ষণে মৃত্যু ঠেকানো কবচ গড়লাম ; তবু সে অপঘাতে অকস্মাৎ মরলো ! ছেলেটা যাদের জ্বালায় মনে মনে এতকাল জ্বলছিল ; সেই সব বকে যাওয়া অসভ্য ঘৃণ্য ছেলে গুলোর অন্যায় – অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে মৃত্যু নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো চির দিনের জন্য !
দেখে নিও সময় ওদের ক্ষমা করবে না , …..
এখন শহরের সব রাস্তায় চিরকালের অসুখ ; এখানে নির্বোধ হয়ে ঘুরছে স্বপ্নদ্বীপের মৃত্যু নিয়ে আলোচনা , …..
অন্য দিকে ব্যাথা নিংড়ানো মন নিয়ে আসে-পাশের রাস্তায় কেউ – কেউ ওই সব কুচক্রি বর্বর হিংস্র অকর্মণ্য জানোয়ারদের ভয়ে ভেতরে ভেতরে নিঃশব্দ নিরবতা নিয়ে চুপ করে ছিল ! এটাই ঘটে যাওয়া বহতা সময়ের করুণ পরিণতি ; সেই কারণে প্রতিবাদ – সভা – সমাবেশ দিন কেটে যাচ্ছে সংবাদে সংবাদে এভাবে চিরাচরিতের মত ! অন্যদিকে দল বাঁচানোর কৃত কৌশল পরিপাটি উক্তি কিম্বা তর্ক-বিতর্ক টিভিতে টিভিতে ; এরই মধ্যে নানান বিজ্ঞাপন রিরোতি ! কী এক দুর্বোধ্য স্বপ্নের মত লাগছিলো স্বপ্নদ্বীপের মৃত্যুটা ; যাদের কারণে ছেলেটা অকালে শেষ হয়ে গেল সেই সব খুনি ইপ্টেজারদের জন্য অগুন্তি ছি ছি কিম্বা নতুন আবিষ্কৃত খিস্তি-টিস্তি পরিপটি ভব্যতায় দিয়েছি কত – শত বার ; প্রকাশ্যে নয়তো মনে মনে ! স্বপ্নদ্বীপের নির্মোহ মাখা গাঢ় নিঃসঙ্গ ছায়া-ছায়া অস্পষ্ট কায়া অস্ফুটে বলতে চেয়েছে “আমাকে মেরোনা , আমি বাঁচতে চাই , আমাকে বন্ধুরা বাঁচতে দাও ! যারা ছেলেটাকে মারলো ; এদের জন্য বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে কেঁদেই চলেছে অহর্নিশ ,…. ভেতর থেকে নির্জন রাতের অন্ধকারে সভ্য-ভদ্র সেজে থাকা ছদ্মবেশী বর্বর জানোয়ার গুলো মাথা উঁচু করে প্রকাশ্যে ঘুরছে ফিরছে হাসছে নির্ভয়ে কথা বলছে বিদ্যাস্তম্ভের চাতালে !

চিত্রপট এভাবেই বদলে যায় , গেছে সময়ে ; বিচ্ছিরি স্বপ্ন নিয়ে মজে আছে এ দেশের প্রতিটা ঘর – বাড়ি এবং অন্য কোনো অন্তরের অন্তঃস্থল ! তবু উদ্ভিন্ন চোখের ভাষায় ভালোবাসা মাখা মন আমার মতো প্রতিবাদি বোকাকে নরকে পাঠায় !

শেষবার এই রাজপথে
গত জন্মের আয়না ভাঙার শব্দ পেয়েছিল স্বপ্নদ্বীপ ! ওর মৃত চোখ দুটো নিষ্পলক ছিল অনেকটা সময় ধরে , সেখানে মৃদু কান্নার চাপা আওয়াজ কেউ শুনতে পায়নি ; শোনার চেষ্টাও করেনি !

 

৬ ) ~ধাত্রীদেবতা ~
_________

সম্প্রতি এই স্খলিত বাতাস রাতপাখির ডাক শুনে আকাশকে দূরলক্ষ্যে উন্মুক্ত হতে বললে ; মহাবনস্পতি ধর্মভ্রষ্ট মনন – এ নিষ্ঠুর হেঁয়ালী নিয়ে লজ্জাহীন নীরব রইল !

উন্মাদ সমুদ্রঢেউ , নীল যৌবন , এধারের শান্তিরস , হয়তো কোথাও তৃষ্ণার অতল ভাঙন ,—— গভীরে সময়শূন্য

এই সুকুমার শরীর রক্তের অমোঘ পরিচিতি নিয়ে মৃত্যুমুখী ধ্যানে এবং অস্থিরতায় !

তবু ধাত্রীদেবতা অলৌকিক চৈতন্যে আমার আদিখ্যেতা দেখে উপহাস করে !

সম্প্রতি ভেজাতে চাই আমার শরীর কবিতার রতিজলে ,—- যদি পুড়ি উদ্ধত আগুনের কাছে ; তাহলে নশ্বরতার কাছে মৃত্যু কেড়ে নেবে ! এই আমার পরবর্তী চ্যালেঞ্জ …..

_________

৭ ) ~ মৎস্যগন্ধারা ~
_________

এখন শূন্য এক লম্বা টা — না স্মৃতিপথ ; হৃদয় সাবান মাখিয়ে দিয়ে বলতে পারি তোকে ,— প্রেম করবি , মন্ত্র আছে জানা ?

চোখের মধ্যে সন্ধ্যার বাতি জ্বলে ; হীমস্বপ্ন তবুও নির্জন ….. হয়তো এভাবেই প্রিয় মুখগুলো তাই ভালোবাসাকে করেনি আগোপন !

যতটুকু আছে , সবটাই দেখি স্মৃতি ; হৃদয় থেকে উঠে দাঁড়ালাম যেই ,—- অনেকটা কাছে ভালোবাসা আছে একা ;
গোপনতন্ত্রে ব্যাথাভরা স্মৃতিতেই !

কিছু কিছু ঢেউ সহজে এমনি আসে ,
ধূসর সময়ে নির্জন চারপাশ ; মনের মধ্যে শাড়ি সেই নারী ঘুমন্ত ঘুমে করে যায় উপহাস !!

ছায়ানীড়
বিদ্যুৎ ভৌমিক
৬৫/১৭ , ফিরিঙ্গি ডাঙা রোড , মল্লিকপাড়া , সূচক ৭১২২০৩ শ্রীরামপুর , হুগলী ,
ভারত , পশ্চিমবঙ্গ

পরিচিতি
_________

এই সময়কার বাংলা কাব্য সাহিত্যের অন্যতম একজন জনপ্রিয় কবি হলেন বিদ্যুৎ ভৌমিক ৷ জন্ম ১৬ ই জুন , ১৯৬৪ পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার সাংস্কৃতিক পিঠস্থান শ্রীরামপুরের ঝিলবাগান অঞ্চলের “কুসুম কুঞ্জ”- এ ৷ পিতা ৺পিযুষ কান্তি ভৌমিক এবং মাতা ৺ ছায়ারাণী ভৌমিক ৷ ছাত্র জীবনের হাতেখড়ি শ্রীরামপুরের পূর্ণচন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয় ৷ মাত্র আট বছর বযসে প্রথম ছড়া লেখা দিয়ে তাঁর আত্মপ্রকাশ ৷ পরবর্ত্তী সময়ে বাংলা কাব্য সাহিত্যের সব শ্রেণীর পত্র-পত্রিকা , কবিতা সংকলনে একমাত্র কবিতা ও শিশু- কিশোরদের জন্য ছড়া লিখে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক দু’ই বাংলার পাঠকদের মনের মণি কোঠায় পৌঁছে গেছেন ৷ তাঁর কবিতার মধ্যে নিজস্ব একটা ব্যতিক্রমী ঘরানা তিনি সৃষ্টি করেছেন ৷ তাঁর অন্যতম কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ১ ) কথা না রাখার কথা ২) নির্বাচিত কবিতা ৩) গাছবৃষ্টি চোখের পাতা ভিজিয়েছিল ৪ ) নীল কলম ও একান্নটা চুমু ,— ইত্যাদি ৷ কবিতা লেখা এবং নিয়মিত সাধনচর্চা’-র জন্য পেয়েছেন কবি হিসেবে বেশ কিছু সম্মান ও পুরস্কার ৷ ১৯৯৭ “দক্ষিণ কোলকাতা ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক পরিষদ”- থেকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসাবে স্বীকৃতি ও ব্রোঞ্চ পদক , এবং সেই বছরে নীল সুষমা পত্রিকা থেকে স্বারস্বত শিরোমনী পত্র ১৯৯৭ সম্মান ৷ 2021 California TV অর্থাৎ CA TV USA এর একটি LIVE অনুষ্ঠানে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক তাঁর কবিতা লেখনীর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এবং বাচিক শিল্পী হিসাবে পেয়েছেন বিশেষ সম্মান ৷ সম্প্রতি 2022 MAA MISSON ASRAM”- থেকে পেয়েছেন “সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সাহিত্য সম্মান” ৷ কবিতাচর্চা পাশাপাশি তিনি একজন বাচিক জগতের অন্যতম বিশিষ্ট আবৃত্তিকার ৷ বেতার , দূরদর্শন , বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল , বিভিন্ন youtube channel , মঞ্চ সহ সোসাল মিডিয়াতে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক”- এর স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি পাঠক ও শ্রোতাদের মনরঞ্জন করে চলেছে ৷

পরিচয় লিখনে ……
ডঃ ইব্রাহীম ইসলাম
( বিশিষ্ট সাংবাদিক ক্যানাডা )